ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ: ৫ ধাপে ২০২৬-এর নিয়ম
এলবিডব্লিউ হলো এমন আউট, যেখানে ব্যাটসম্যানের পা বা শরীরের অন্য অংশ ব্যাটের আগে বলের পথে এসে উইকেট রক্ষা করে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে আম্পায়ার আউট দেন। ক্রিকেটের আইন ৩৬ অনুযায়ী, বলটি নো-বল না হওয়...
ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ: ৫ ধাপে ২০২৬-এর নিয়ম
এলবিডব্লিউ হলো এমন আউট, যেখানে ব্যাটসম্যানের পা বা শরীরের অন্য অংশ ব্যাটের আগে বলের পথে এসে উইকেট রক্ষা করে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে আম্পায়ার আউট দেন। ক্রিকেটের আইন ৩৬ অনুযায়ী, বলটি নো-বল না হওয়া, ব্যাটে প্রথম স্পর্শ না হওয়া, উইকেটের সামনে শরীরে লাগা এবং বলটি স্টাম্পে আঘাত করত—এই বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল সাধারণত এলবিডব্লিউ নয়, যদি সে ব্যাটে শট খেলার চেষ্টা করে; তবে শটের চেষ্টা না থাকলে ব্যতিক্রম ঘটতে পারে। ২০২৬ সালেও সিদ্ধান্তে মাঠের আম্পায়ার, তৃতীয় আম্পায়ার, ডিআরএস ও বল-ট্র্যাকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু প্যাডে বল লাগলেই আউট নয়; পাঁচটি শর্ত মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আবেদন করার আগে বলের পিচিং, আঘাতের স্থান ও সম্ভাব্য উইকেট-হিট পরীক্ষা করুন।
এলবিডব্লিউ নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো, প্যাডে বল লাগলেই ব্যাটসম্যান আউট। তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিদ্ধান্তটি আসলে বলের পিচিং, ব্যাটে সংযোগ, শরীরে আঘাতের বিন্দু এবং স্টাম্পে বল লাগার সম্ভাবনা—এই চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়ায়। বিপিএল খবর-এ ক্রিকেটের আইন, ম্যাচ বিশ্লেষণ ও খেলোয়াড়ের পরিসংখ্যান বোঝার সময় এই কাঠামোই অনুসরণ করা উচিত। শুনে রাখুন—এটাই সেই অংশ, যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: ব্যাটসম্যানের শরীর বলের সামনে থাকলেই হবে না, আম্পায়ারকে নিশ্চিত হতে হবে যে বলটি স্টাম্পে লাগত এবং ব্যাটে আগে লাগেনি।

বিষয়টি আরও নির্ভুলভাবে বুঝতে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ৩৬ দেখা যায়। সেখানে এলবিডব্লিউকে কেবল পায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত না করে ব্যাটসম্যানের শরীরের যেকোনো অংশের অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখন ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি দেখা যাক, কারণ একটি শর্ত বাদ পড়লে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।
আরও ক্রিকেট আইন ও ম্যাচ বিশ্লেষণ জানতে এই নির্দেশিকাটি সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ১: বলটি বৈধ কি না যাচাই করবেন?
এলবিডব্লিউ দেওয়ার প্রথম শর্ত হলো বলটি নো-বল না হওয়া; নো-বলে এলবিডব্লিউ আউট দেওয়া যায় না। বল বৈধ হলে এরপর দেখা হয় সেটি ব্যাটসম্যানের শরীরে লাগার আগে ব্যাটে স্পর্শ করেছে কি না, কারণ ব্যাটে প্রথম স্পর্শ হলে এলবিডব্লিউ প্রযোজ্য হয় না।
এই প্রাথমিক যাচাইটি অনেক দর্শক উপেক্ষা করেন, কিন্তু ম্যাচের ফলাফলে এর প্রভাব সরাসরি। বোলারের সামনের পা ক্রিজের সীমা অতিক্রম করলে নো-বল হতে পারে, আবার বলের উচ্চতা ও বাউন্সও আলাদা বিবেচনার বিষয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল এবং মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নো-বলের ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ করে আউট করা যায় না, যদিও বল প্যাডে লেগে সরাসরি স্টাম্পে যাওয়ার মতো দেখায়। তাই টেলিভিশন রিপ্লেতে প্রথমে ফ্রন্ট-ফুট নো-বল পরীক্ষা করা হয়।
আরেকটি সূক্ষ্ম বিষয় হলো ব্যাট ও প্যাডের একসঙ্গে সংযোগ। বল একই মুহূর্তে ব্যাট ও শরীরে লাগলে সাধারণত ব্যাটের স্পর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, ফলে এলবিডব্লিউ বাতিল হতে পারে। ডিআরএসে আল্ট্রাএজ বা স্নিকোমিটারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলে এই ক্ষুদ্র পার্থক্য ধরা পড়ে, যদিও মাঠের সিদ্ধান্ত বদলাতে প্রযুক্তিগত প্রমাণকে পরিষ্কার হতে হয়। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে তৃতীয় আম্পায়ার সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে নো-বল, ব্যাট-স্পর্শ এবং বলের গতিপথ আলাদা পর্যায়ে পরীক্ষা করেন।
- বল নো-বল হলে এলবিডব্লিউ নয়।
- ব্যাটে আগে লাগলে এলবিডব্লিউ নয়।
- ব্যাট ও প্যাডে একসঙ্গে লাগলে ব্যাটের সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
- বৈধ বল হলেও অন্য শর্ত পূরণ না হলে ব্যাটসম্যান নট আউট।
ধাপ ২: বলটি কোথায় পিচ করেছে তা কীভাবে বুঝবেন?
বলটি স্টাম্পের লাইনে বা অফ স্টাম্পের ভেতরে পিচ করলে এলবিডব্লিউয়ের সম্ভাবনা থাকে; কিন্তু অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলের ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান শট খেলতে চেয়েছিলেন কি না, সেটি নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। এই পিচিং নিয়মই এলবিডব্লিউয়ের সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝা অংশ।
মাঠকে তিনটি কার্যকর অঞ্চলে ভাবুন: স্টাম্পের লাইনে, অফ স্টাম্পের বাইরে এবং লেগ স্টাম্পের বাইরে। স্টাম্পের লাইনে পিচ করা বল শরীরে লাগার পর স্টাম্পে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে এলবিডব্লিউ হতে পারে। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল যদি ব্যাটসম্যান শট খেলার চেষ্টা করেন এবং প্যাডে লাগে, সাধারণত আউট নয়; কিন্তু ব্যাটসম্যান শট না খেললে একই বল এলবিডব্লিউ হতে পারে। লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল সাধারণত এলবিডব্লিউয়ের আওতায় আসে না, কারণ বলটি উইকেটের বাইরে থেকে এসেছে।
এখানে বলের প্রথম বাউন্সের স্থান গুরুত্বপূর্ণ, শেষ পর্যন্ত বল কোথায় পৌঁছেছে তা নয়। যেমন, শ্রীলঙ্কার গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে স্পিনারদের বল পিচ করার পর অনেকটা ঘুরে ব্যাটসম্যানের প্যাডে লাগে; বল পরে স্টাম্পে যেত কি না, সেটি আলাদা প্রশ্ন। শুধু বলটি লেগ স্টাম্পের দিকে ঘুরেছে বলে এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না। ক্রিকেটে ডিআরএস কীভাবে কাজ করে
একটি ব্যবহারিক নিয়ম মনে রাখুন:
১. স্টাম্পের লাইনে পিচ করলে শটের ধরন সাধারণত বাধা নয়।
২. অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করলে শটের চেষ্টা যাচাই করতে হবে।
৩. লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এলবিডব্লিউ নয়।
৪. বলের পিচিং নির্ধারণে ডিআরএসের বল-ট্র্যাকিং ব্যবহার করা হয়, কিন্তু প্রযুক্তির সীমারেখাও থাকে।
বল পিচিংয়ের এই পার্থক্যগুলো আরও পরিষ্কারভাবে দেখতে চাইলে নিচের তথ্যভিত্তিক নির্দেশিকাটি দেখুন।
ধাপ ৩: প্যাডে আঘাতের স্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্যাডে বল লাগলেই সিদ্ধান্ত হয় না; আম্পায়ারকে নির্ধারণ করতে হয়, আঘাতের মুহূর্তে বলটি স্টাম্পের সামনে ছিল কি না এবং ব্যাটসম্যান শট খেলছিলেন কি না। আঘাতের বিন্দু অফ স্টাম্পের বাইরে হলে শটের চেষ্টা, বলের পিচিং এবং শরীরের অবস্থান একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়।
আইন ৩৬-এর বাস্তব প্রয়োগে “স্টাম্পের সামনে” বলতে শুধু প্যাডের বাইরের প্রান্ত বোঝায় না। বলের গতিপথ, ব্যাটসম্যানের পায়ের অবস্থান এবং বলের উচ্চতা—সবকিছু বিবেচনায় আসে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যাটসম্যান ক্রিজ ছেড়ে সামনে এগিয়ে গেলে প্যাড স্টাম্পের সামনে দেখা যেতে পারে, কিন্তু আঘাতের সময় তার শরীরের প্রকৃত অবস্থান ও বলের লাইন প্রযুক্তিতে পুনর্গঠন করা হয়। এই কারণে একই ধরনের দুটি আবেদন দেখতে এক হলেও ফল ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষ করে স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন, নাথান লায়ন বা সাকিব আল হাসানের মতো বোলারদের বিরুদ্ধে বলের ঘূর্ণন ও ড্রিফট প্যাডের অবস্থান বদলে দেয়। কেবল বল প্যাডের মাঝখানে লেগেছে কি না দেখলে ভুল হবে। ব্যাটসম্যানের হাঁটু মাটির কাছাকাছি থাকলে বলের সম্ভাব্য উচ্চতা, আবার সামনের পা অনেক দূরে এগোলে বলের ইমপ্যাক্ট পয়েন্ট—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের ভাষায়, “বলটি উইকেটে আঘাত করত কি না”—এই অনুমান এলবিডব্লিউয়ের কেন্দ্রে থাকে। তবে এটি অনুমাননির্ভর আন্দাজ নয়; বল-ট্র্যাকিং, রিপ্লে ও আম্পায়ারের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত হয়। তাই মাঠের আম্পায়ারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত এবং ডিআরএসের ফলের মধ্যে সামান্য পার্থক্য দেখা গেলেও সেটি প্রযুক্তিগত অনিশ্চয়তার অংশ।

ধাপ ৪: বলটি স্টাম্পে লাগত কি না কীভাবে যাচাই করবেন?
এলবিডব্লিউয়ের শেষ ক্রিকেটীয় পরীক্ষা হলো বলের সম্ভাব্য গতিপথ; প্যাডে না লাগলে বলটি স্টাম্পে আঘাত করত কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন। বল স্টাম্পের ওপর দিয়ে চলে গেলে, খুব বাইরে দিয়ে গেলে বা বেলসের নিচ দিয়ে গেলে এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না।
বল-ট্র্যাকিং সাধারণত তিনটি ফল দেখায়: পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং উইকেট-হিট। পিচিং বল কোথায় পড়েছে, ইমপ্যাক্ট প্যাডে কোথায় লেগেছে এবং উইকেট-হিটে বল স্টাম্পে লাগত কি না—এই তিন স্তর একসঙ্গে পড়তে হয়। ডিআরএস প্রযুক্তিতে বলের পূর্ববর্তী গতি ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পথ ব্যবহার করে অনুমান তৈরি করা হয়। কিন্তু বলের কিছু অংশ স্টাম্পের কিনারায় লাগত কি না, সেখানে প্রযুক্তিগত অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।
এখানে “আম্পায়ার্স কল” গুরুত্বপূর্ণ। বলের ইমপ্যাক্ট বা উইকেট-হিট যদি নির্ধারিত সীমার খুব কাছাকাছি থাকে, প্রযুক্তি মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল করে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ডিআরএস প্রোটোকল অনুযায়ী, আম্পায়ার্স কল বহাল থাকলে রিভিউ নষ্ট হয় না। এই নিয়ম ২০২৬ সালেও দর্শকদের বিভ্রান্ত করে, কারণ পর্দায় বলের অংশ স্টাম্পে লাগতে দেখা গেলেও মাঠের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শুনে রাখুন—এটাই সেই অংশ, যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: “উইকেট-হিট” সবুজ দেখালেও যদি পিচিং বা ইমপ্যাক্টের শর্ত ভেঙে যায়, এলবিডব্লিউ দেওয়া যাবে না। তাই রিপ্লে দেখার সময় শুধু শেষ ফ্রেম নয়, তিনটি ধাপই লক্ষ্য করুন।
- পিচিং: বল প্রথম কোথায় পড়েছে?
- ইমপ্যাক্ট: শরীরে লাগার সময় বলের লাইন কোথায়?
- উইকেট-হিট: প্যাড না থাকলে স্টাম্পে বল লাগত কি?
- আম্পায়ার্স কল: প্রযুক্তির সীমারেখা কি মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল রাখছে?
ডিআরএসের সিদ্ধান্ত বুঝতে ক্রিকেটে বল-ট্র্যাকিং ও আম্পায়ার্স কল পড়লে প্রযুক্তিগত পার্থক্য আরও স্পষ্ট হবে।
ধাপ ৫: সিদ্ধান্তটি কীভাবে যাচাই করবেন?
এলবিডব্লিউ যাচাইয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো পাঁচটি শর্ত ধারাবাহিকভাবে মিলিয়ে দেখা: নো-বল নয়, ব্যাটে আগে লাগেনি, পিচিং বৈধ অঞ্চলে, আঘাত স্টাম্পের সামনে এবং বল স্টাম্পে লাগত। এই পাঁচটি পরীক্ষার যেকোনো একটিতে ব্যর্থতা থাকলে এলবিডব্লিউ বাতিল হবে।
একজন দর্শক বা বিশ্লেষক নিম্নের ক্রম অনুসরণ করতে পারেন:
১. নো-বল দেখুন: বোলারের সামনের পা বৈধ অবস্থায় ছিল কি না পরীক্ষা করুন।
২. ব্যাট-স্পর্শ দেখুন: বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাটে লেগেছে কি না দেখুন।
৩. পিচিং শনাক্ত করুন: বল অফ স্টাম্পের বাইরে, স্টাম্পের লাইনে নাকি লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়েছে তা নির্ধারণ করুন।
৪. শটের চেষ্টা বুঝুন: অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলে ব্যাটসম্যান শট খেলতে চেয়েছিলেন কি না দেখুন।
৫. উইকেট-হিট যাচাই করুন: প্যাড না থাকলে বল স্টাম্পে আঘাত করত কি না পরীক্ষা করুন।
এই পদ্ধতিতে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা যায়, কিন্তু রেফারি বা আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়। ক্রিকেটে মানবিক পর্যবেক্ষণ এবং প্রযুক্তি পাশাপাশি কাজ করে। ২০২৩ সালের পর ডিআরএস ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আল্ট্রাএজ, হটস্পট এবং বল-ট্র্যাকিংয়ের সমন্বয় দেখা গেলেও প্রতিটি টুর্নামেন্টের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এক নয়। ভারত, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে সম্প্রচারের গ্রাফিক্স ভিন্ন হতে পারে; আইনের মূল কাঠামো অবশ্য একই থাকে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ব্যাটসম্যান শট খেলেননি—এটি প্রমাণের জন্য সবসময় বড় ব্যাকলিফট দরকার হয় না। শরীরের নড়াচড়া, ব্যাট নামানোর চেষ্টা এবং বলের লাইন দেখে আম্পায়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিপরীতে, ব্যাটসম্যান ব্যাট চালালেও ব্যাটে স্পর্শ না হলে এলবিডব্লিউয়ের অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে আউট হতে পারেন।

সাধারণ ভুলের সমাধান
অনেক দর্শক বলেন, “বল স্টাম্পে লাগত, তাই আউট”—এটি অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যা। নো-বল, ব্যাট-স্পর্শ ও পিচিংয়ের নিয়ম আগে পরীক্ষা না করলে শেষের গতিপথ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। একইভাবে, বল অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করেছে দেখেই নট আউট ধরে নেওয়াও ভুল, কারণ ব্যাটসম্যান শট না খেললে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে।
আরেকটি সাধারণ বিভ্রান্তি হলো “প্যাডের সামনে” এবং “স্টাম্পের সামনে”কে একই অর্থে ব্যবহার করা। প্যাড শরীরের সামনে থাকলেও বলের আঘাতের লাইন স্টাম্পের বাইরে হতে পারে। আবার প্যাড বাইরে দেখা গেলেও শরীরের নির্দিষ্ট অংশ স্টাম্পের লাইনে থাকতে পারে। তাই ধীরগতির রিপ্লে, বলের পিচিং মার্ক এবং ব্যাটসম্যানের শটের ইঙ্গিত—তিনটি একসঙ্গে দেখুন।
বিপিএল, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ এবং অ্যাশেজে এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করার সময় দলীয় পক্ষপাত কমাতে এই যাচাই তালিকা কাজে লাগে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে প্রতি ইনিংসে এলবিডব্লিউয়ের সংখ্যা, বোলারের ধরন এবং ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং-পজিশনও বিবেচনা করা উচিত। শুধু একটি বিতর্কিত রিপ্লে দেখে “আম্পায়ার ভুল করেছেন” বলা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নয়।
সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের একটি সংক্ষিপ্ত সূত্র হলো: বৈধ বল + ব্যাটে আগে নয় + সঠিক পিচিং + সঠিক ইমপ্যাক্ট + স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা। এই পাঁচটি একত্রে না মিললে এলবিডব্লিউ নয়।
এলবিডব্লিউ ও ক্রিকেটের অন্যান্য জটিল আইন নিয়ে নিয়মিত বিশ্লেষণ পেতে এই তথ্যভাণ্ডার অনুসরণ করতে পারেন।
Frequently Asked Questions
প্রশ্ন: ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ কী?
উত্তর: ব্যাটে আগে না লেগে বৈধ বল ব্যাটসম্যানের শরীরে আঘাত করে এবং বলটি স্টাম্পে লাগত—এমন পরিস্থিতিতে এলবিডব্লিউ আউট হয়। বল নো-বল হলে এই আউট দেওয়া যায় না। পিচিং, ইমপ্যাক্ট, শটের চেষ্টা এবং উইকেট-হিট—সব শর্ত একসঙ্গে পূরণ করতে হয়।
প্রশ্ন: এলবিডব্লিউ আউট হওয়ার পাঁচটি শর্ত কী?
উত্তর: পাঁচটি প্রধান শর্ত হলো বল নো-বল না হওয়া, ব্যাটে আগে না লাগা, বৈধ অঞ্চলে পিচ করা, স্টাম্পের সামনে শরীরে লাগা এবং প্যাড না থাকলে স্টাম্পে আঘাত করা। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলের ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান শট খেলেছিলেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো একটি শর্ত পূরণ না হলে সিদ্ধান্ত নট আউট হতে পারে।
প্রশ্ন: অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলে এলবিডব্লিউ কেন কখনও হয়?
উত্তর: ব্যাটসম্যান যদি অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলে শট খেলার চেষ্টা না করেন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এলবিডব্লিউ দেওয়া যায়। কিন্তু তিনি ব্যাট দিয়ে শট খেলতে চেয়েছিলেন এবং বল প্যাডে লাগলে সাধারণত আউট হন না। আম্পায়ার ব্যাটের নড়াচড়া, শরীরের ভঙ্গি এবং বলের গতিপথ একসঙ্গে বিচার করেন।
প্রশ্ন: এলবিডব্লিউ ও বোল্ডের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: বোল্ডে বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে বেলস ফেলে, আর এলবিডব্লিউতে শরীরের অংশ বলকে স্টাম্পে পৌঁছাতে বাধা দেয়। এলবিডব্লিউয়ের জন্য পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও ব্যাট-স্পর্শের অতিরিক্ত শর্ত রয়েছে। বোল্ডের ক্ষেত্রে বল ব্যাটে লাগতে পারে, কিন্তু বলের পরবর্তী আঘাতে স্টাম্প ভাঙতে হবে।
প্রশ্ন: ডিআরএসে এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত কীভাবে যাচাই হয়?
উত্তর: ডিআরএসে প্রথমে নো-বল, পরে ব্যাটে স্পর্শ, তারপর পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও উইকেট-হিট পরীক্ষা করা হয়। আল্ট্রাএজ বা অন্যান্য শব্দ-চিত্র প্রযুক্তি ব্যাটে সংযোগ যাচাই করতে সাহায্য করে, আর বল-ট্র্যাকিং সম্ভাব্য গতিপথ দেখায়। ইমপ্যাক্ট বা উইকেট-হিট সীমার কাছাকাছি হলে আম্পায়ার্স কল মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে পারে।
প্রশ্ন: প্যাডে বল লাগলে কি সবসময় এলবিডব্লিউ হয়?
উত্তর: না, প্যাডে বল লাগা এলবিডব্লিউয়ের কেবল একটি অংশ। বল নো-বল হলে, ব্যাটে আগে লাগলে, লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করলে বা স্টাম্পে না লাগলে ব্যাটসম্যান আউট নন। তাই দর্শকের উচিত শুধু আঘাতের শব্দ না শুনে রিপ্লেতে পাঁচটি শর্ত যাচাই করা।
প্রশ্ন: এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত বোঝার সহজ উপায় কী?
উত্তর: প্রথমে নো-বল, তারপর ব্যাট-স্পর্শ, পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং উইকেট-হিট—এই ক্রমে পাঁচটি প্রশ্ন করুন। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলে শটের চেষ্টা ছিল কি না, সেটি আলাদা করে দেখুন। এই ধারাবাহিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে বিপিএল বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অধিকাংশ এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত সহজে বোঝা যায়।
এলবিডব্লিউ বোঝার সারকথা হলো—প্যাডে বল লাগা নয়, বরং পাঁচটি আইনি শর্তের সমন্বয়ই আউটের ভিত্তি। ম্যাচের মুহূর্তে আবেগ আপনাকে ভুল পথে নিতে পারে, তাই বলের বৈধতা, ব্যাটে সংযোগ, পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও স্টাম্প-হিটের সম্ভাবনা একে একে যাচাই করুন। বিপিএল খবর-এ ক্রিকেট আইন, ডিআরএস এবং খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স নিয়ে আরও তথ্যভিত্তিক লেখা পড়ুন।
বিষয়টি আরও গভীরভাবে অনুসরণ করতে আজই আমাদের ক্রিকেট বিশ্লেষণ দেখুন।
BPL খবর · System Archive · Entry Complete